ব্রেকিং নিউজ
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ে ময়মনসিংহে এনসিপি সমর্থিত এনডিইএ র নতুন কমিটি ঘোষণা যুবলীগ নেতা আবুল হাসান আবারো বেপরোয়া : মতিঝিলে চালাচ্ছে নীরব চাঁদাবাজি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জার্নালিস্ট ভয়েস অব বাংলাদেশ (জাভবা) ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘকে প্রস্তাব দেবে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের গোপন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম, যা জানা গেল নান্দাইলে ধর্মের আড়ালে ভণ্ডামি: মিল্লাত রাব্বির সাম্রাজ্য, নারী ভক্ত, অবৈধ অর্থ ও রহস্যজনক মৃত্যুর
×

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০/৭/২০২৬, ৯:১৭:৩৯ AM

যুবলীগ নেতা আবুল হাসান আবারো বেপরোয়া : মতিঝিলে চালাচ্ছে নীরব চাঁদাবাজি

পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেক্কার জনক পতন হলেও যুবলীগ নেতা পরিচয়ে আবুল হাসান ওরফে হাসান দীর্ঘদিন পলাতক ও জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পরে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আবুল হাসান ওরফে হাসান।

 পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেক্কার জনক পতন হলেও যুবলীগ নেতা পরিচয়ে আবুল হাসান ওরফে হাসান দীর্ঘদিন পলাতক ও জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পরে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আবুল হাসান ওরফে হাসান। নিজের আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে বর্তমানে মতিঝিল বিমান অফিস গলিতে আস্তানা গেড়ে বসেছে।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা পরিচয়ে আবুল হাসান ওরফে হাসান ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় আবুল হাসান ওরফে হাসানের নেতৃত্বে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরোনো চাঁদাবাজ চক্র।


বিগত সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা নামে পরিচিত শীর্ষ চাঁদাবাজ ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত আবুল হাসান ওরফে হাসান নতুন পরিচয়ে ও ভিন্ন কায়দায় এই চাঁদাবাজির রামরাজত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ​দলীয় প্রভাব খাটানো সহ আবুল হাসান ওরফে হাসান তাঁর পুরোনো ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট নিয়ে মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় নতুন করে চাঁদাবাজির জাল বিছিয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ ও ব্যাবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।যা যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাইকোর্ট, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন ও মতিঝিল এলাকার বহুল পরিচিত পেশাদার চাঁদাবাজ আবুল হাসান ওরফে হাসান বিগত ১৭ বছর ধরে মতিঝিলে এলাকায় চাঁদাবাজীতে একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক এমপি ফারুক খান ও এমপিনশেখ সেলিমের সহযোগী হিসেবে ব্যাবসায়ী ও মতিঝিলে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিগত ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সরকারের নেক্কারজনক পতনের সাথে সাথে আবুল হাসান ওরফে হাসান ও তাঁর সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে অতি সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক খোলস ব্যবহার করে এবং স্থানীয় এক জামায়াত নেতার প্রশ্রয় নিয়ে তিনি তাঁর পুরোনো সন্ত্রাসী বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, মতিঝিলের বিশাল এলাকায় ফুটপাত গুলোতেও প্রতিদিন নীরব চাঁদা তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করছে। এ চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আবুল হাসান ওরফে হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা হয়েছিল। কিন্তু বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগের পরিচয়ের কারণে তিনি সবসময়ই পার পেয়ে গেছেন।

মতিঝিল এলাকার একজন দীর্ঘদিনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ৫ই আগস্টের পর শান্তিতে ব্যবসা করতে পারব, কোনো জুলুম থাকবে না। কিন্তু এখন দেখছি শুধু মানুষের মুখ বদলেছে, অত্যাচারের নিয়ম বদলায়নি। আবুল হাসান ওরফে হাসান ও তার লোকজন আবার চাঁদার টাকা তোলা শুরু করেছে। প্রতিবাদ করলে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।​অন্য একজন ব্যবসায়ী জানান, অতীতে আবুল হাসান ওরফে হাসানের চাঁদাবাজির কারণে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু উল্টো আবুল হাসান ওরফে হাসানের পালিত গুন্ডাবাহিনীর তোপের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখন আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

কে এই আবুল হাসানঃ গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় আবুল হাসান ওরফে হাসানের বাড়ি। সে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগের নেতা পরিচয় দিতো। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সরকরী দপ্তর বিআরটিসিতে চাঁদবাজি করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এছাড়াও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার উপর হামলার কারনে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার অপব্যবহার বা দল পরিবর্তনের মাধ্যমে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জারি রাখছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গুলোকে যদি এখনই দমন করা না যায়, তবে তা সরকারের সুশাসনের মূল স্পিরিটকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ভুক্তভোগীদের উচিত ভয় না পেয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল হাসান ওরফে হাসানের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, মতিঝিল ও পল্টন এলাকাকে চাঁদাবাজ মুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।