রাজশাহীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর সাহেববাজারস্থ হোটেল ওয়ারিশানে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, রাজশাহী জেলা আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর সাহেববাজারস্থ হোটেল ওয়ারিশানে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, রাজশাহী জেলা আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, এমপি।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, রাজশাহী জেলার উপদেষ্টা জনাব গোলাম মুর্তজা। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, রাজশাহী জেলার সভাপতি ড. মো. ওবায়দুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, একজন মুসলমানের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাতের সফলতা। দুনিয়ার কোনো কাজের সাফল্য-ব্যর্থতার পাশাপাশি সেই কাজ আখিরাতের দিক থেকে কল্যাণকর কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।তিনি বলেন, কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। ইলম বা জ্ঞান মানুষের জন্য আলোস্বরূপ। বিশেষ করে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় এবং কল্যাণ-অকল্যাণের পার্থক্য বুঝতে পারে।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনয়, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এমনভাবে জীবন পরিচালনা করতে হবে, যাতে প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হয়।অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান আরও বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো এবং সম্ভব হলে জামাতের সঙ্গে আদায়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নামাজ মানুষকে গাফেলতামুক্ত ও আল্লাহসচেতন করে। কোনো অনিবার্য কারণ ছাড়া নামাজে অবহেলা করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, মানুষের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহকে জীবনের প্রকৃত রব হিসেবে মেনে নিতে হবে। আজকের নামাজটি জীবনের শেষ নামাজ হতে পারে—এই চেতনা নিয়ে নামাজ আদায় করলে মানুষের মধ্যে আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধির অনুভূতি সৃষ্টি হয়।তিনি উপস্থিত সবাইকে নিজেদের পরিবারে ইসলামী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের জীবনেও কুরআন-সুন্নাহর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল হওয়ার আগে একজন মুসলমান হিসেবে মৌলিক আমলগুলো ঠিক করা জরুরি। নামাজ, ইলম অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা একজন মুসলমানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে নৈতিক ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, মসজিদ সমাজ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মসজিদকেন্দ্রিক নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরি হলে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পর্যায়ে সৎ, যোগ্য ও আমানতদার মানুষ তৈরি করতে হবে। সরকারি অর্থের অপচয়, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সৎ, সাহসী ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য জ্ঞান, নৈতিকতা, সাহস ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল পরিবেশেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং শিক্ষক ও ছাত্রদের সমাজের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।তিনি জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা ছয় মাসের মধ্যে প্রদান, শিক্ষকদের ১০০ শতাংশ উৎসব ভাতার ব্যবস্থা এবং বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে শিক্ষক সমাজের ন্যায্য অধিকার, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার তাওফিক কামনা করেন।শেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং নিয়মিত নামাজ আদায়, কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন, নৈতিক জীবন গঠন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।