ব্রেকিং নিউজ
ধণর্ষকারীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ইসলামের সাঁথিয়ায় মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে ৬ জন গ্রেফতার সাগর রুনি হত্যার বিচার ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন নান্দাইলে প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে! প্রবাসী স্বামীসহ গৃহবধূকে হাতেনাতে ধরার অভিযোগ খুলনায় পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ে দুদিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন
×

শামীম আহমেদ : পাবনা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১/৯/২০২৬, ৯:২৯:৩৫ PM

ধণর্ষকারীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ইসলামের

মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ বলেছেন, ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে একটি ভয়াবহ অপরাধ। একজন মানুষের ইজ্জত, নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর জোরপূর্বক আঘাত করা ইসলামের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম মানুষের সম্মান ও অধিকার রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে এবং জুলুম, অশ্লীলতা ও সীমালঙ্ঘন থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।

 মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ বলেছেন, ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে একটি ভয়াবহ অপরাধ। একজন মানুষের ইজ্জত, নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর জোরপূর্বক আঘাত করা ইসলামের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম মানুষের সম্মান ও অধিকার রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে এবং জুলুম, অশ্লীলতা ও সীমালঙ্ঘন থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন।” —সূরা আন-নাহল: ৯০ তিনি বলেন, ধর্ষণ হলো জবরদস্তি, নির্যাতন ও সম্ভ্রমহানির জঘন্য সমন্বয়। তাই ইসলামের ন্যায়বিচারের মূলনীতিতে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিচার
ইসলাম অপরাধ দমনে ন্যায়সংগত ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার কথা বলে। ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন ও আদালতের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে বিচার হতে হবে প্রমাণ, সাক্ষ্য ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ইসলামের পদ্ধতি নয়।রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কারণ কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকারে পরিণত হবে।” —সহিহ মুসলিম তিনি বলেন, এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যের ওপর জুলুমের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

ভুক্তভোগীকে দোষারোপ নয়
ধর্ষণের শিকার নারীকে সমাজের পক্ষ থেকে অপমান, সন্দেহ বা দোষারোপ করা অন্যায়। অপরাধীর অপরাধের দায় কোনোভাবেই ভুক্তভোগীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।বরং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ইসলাম মজলুমের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের কাজ সম্পর্কে উদাসীন নন।” —সূরা ইবরাহিম: ৪২

শুধু আইন নয়, নৈতিক শিক্ষাও জরুরি
ধর্ষণ প্রতিরোধে শুধু শাস্তির বিধানই যথেষ্ট নয়; পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা, তাকওয়া, লজ্জাশীলতা এবং নারীর প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই অন্যের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।একই সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ও নৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।