“বৃষ্টি ভেজা জানালা ” ।। news10tv.com

লেখক - গোলাম মোস্তফা আশা।

0 ৫৩

 

বাস স্টেন্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি আমি। আকাশের দিকে এক মনে চেয়ে আছি। কেমন যেন মেঘলা মেঘলা হয়ে আছে চারপাশটা। কালো মেঘে ঢেকে গেছে সূর্য! বৃষ্টি আসবে আসবে ভাব। এমন সময় কেউ একজন বাম হাত-টা হেঁচকা টান দিলো। পাশে ফিরতেই মেজাজ বিগড়ে গেল মুহুর্তেই। পাশের ব্যক্তিটিকে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে উঠলাম ,”রাস্তার মধ্যে একটা মেয়ের হাত ধরে টান দিচ্ছেন, লজ্জা লাগে না?” সে মুচকি হেসে বলল ,। “নিজের বউয়ের হাত ধরা বুঝি অন্যায় ?” “আমি আপনার বউ না। “বললেই হলো? বিয়ে হয়েছে আমাদের। “জোড় করেছিলেন “আমি? কখন?  “আপনার পরিবার জোড় করেছিল আমাকে বিয়ে করতে।  “পরিবার আর আমি কি এক ?  “পরিবার তো আপনারই।” ঠোঁট কামড়ে হাসলো সে। আমার হাত আবার ধরতে নিলে হাত সরিয়ে ফেললাম আমি। বললাম ,”দূরে থাকুন  “অধিকার আছে। “বেশি দিন থাকবে না। ডিভোর্স হবে আমাদের।  “আমি তো দিচ্ছি না ডিভোর্স। একজনের সাইনে কিচ্ছু হবে না।  “আপনি সাইন করতে বাধ্য। “আমি কারও বাধ্য নই।” এক প্রকার জোড় করে হাতটা ধরল সে। হাত ছাঁড়াতে নিলে আরও শক্ত করে ধরল। ইতোমধ্যে বাস এসে গেছে। রাগী দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম একবার। কণ্ঠে কঠিন ভাব এনে বললাম, “হাত ছাড়ুন। “উহু!  “কিসের উহু? বাসে উঠব আমি।” সে করুন চোখে একবার তাকালো আমার দিকে। হাত ছেঁড়ে দিলো ততক্ষনাত। নিচু সরে বললাম , “বলেছিলাম না আপনি বাধ্য? প্রমাণ পেয়েছেন?” আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালাম না সেখানে। দ্রুত উঠে পড়লাম বাসে। জানালার সীটে বসে তার দিকে তাকালাম একবার। দেখলাম সে মুচকি হাসছে। অনেক রহস্যে ঘেড়া সে হাসি। এ হাসি দেখেই তো বিয়ের পর তার প্রেমে পড়েছিলাম। কিন্তু আফসোস! এ হাসির মালিক আমার নয় !  তখন ছিল ফাল্গুন মাস। ইন্টার ফাস্ট ইয়ারের ছাত্রী আমি। পড়ালেখার মাঝেই তার পরিবার বিয়ের প্রস্তাব পাঠান আমাদের বাড়িতে। কিন্তু আমি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করব না। আরও পড়ব! তবে তা কি আর হওয়ার? মা-বাবার অনেক পছন্দ হয়েছে পাত্রকে। পরিবারও ভালো। তবে আর দেড়ি কিসের? আমার মতের বিরুদ্ধে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর বেশ সুখেই ছিলাম। তার হাসি, তার আচরণ, গুছিয়ে কথা বলা, আমার প্রতি যত্ন আর ভালোবাসা যেন আমাকে বরাবরই তার প্রেমে পড়তে বাধ্য করে। সুখের ছিল সংসারটা। তবে এ সুখ তো আমার ছিল না। আমি যে অলক্ষী-অপয়া! বিয়ের ৩বছর পর জানতে পারি আমি মা হতে পারব না। শ্বাশুড়ি মার এক কথা- সে এমন অপয়া মেয়েকে তার পুত্রবধূ হিসেবে চান না। আমাকে নানাভাবে কটু কথা শোনাতেন। এমন কি পা ধরেও বলেছেন আমি যেন তার ছেলের জীবন থেকে চলে যাই। তখন তাচ্ছিল্য ভরা হাসি হেসে ছিলাম আমি। এ কি সত্যিই আমার শ্বাশুড়ি মা? যে কিনা তার পূত্রবধু হিসেবে আমাকে জোড় করে তার ছেলের সাথে বিয়ে দেন। আমাকে নিজের মাথার ওপর উঠিয়ে ভালোবাসতেন। এ কি সেই মা? নাকি অন্য কেউ? চলে এসেছিলাম সেদিন। সে আটকাতে চেষ্টা করেছিল আমায়। তবে আর কত? আর কত সহ্য করব এগুলো? তার চেয়ে ভালো শূণ্য জীবন। এসবের চেয়ে নিজের ভালোবাসার মানুষকে ছাঁড়া জ্যান্ত লাশ হয়ে থাকাও শ্রেও! তার শত বাঁধার পরও বুকে পাথর রেখে চলে এসেছিলাম সেদিন! বাবা-মাও সাদরে গ্রহণ করেন। কেননা দোষ তো তাদেরই ! এর পর কেটে যায় ১টা বছর। সে প্রতিদিন এভাবে আমার জন্য বাসস্টেন্ডে দাঁড়িয়ে থাকে। বাসার নিচেও মাঝে মাঝে থাকে। নানা ভাবে তাকে অপমান করলেও হাসে। হেসে হসে বলে , “তুমি তো আমার বুকের পাঁজর দিয়ে তৈরি। তোমাকে এভাবে কিভাবে ছেঁড়ে দি?” এখন আর অপমান করি না তাকে। আর কত? মানুষটাকে যে আমিও প্রচন্ড ভাবে ভালোবাসি। দীর্ঘ শ্বাস ফেললাম আমি। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। জানালা লাগিয়ে সেখানে মাথা ঠেকলাম। বৃষ্টির এক এক বিন্দু জানালায় গড়িয়ে পড়ছে। আমার জীবনটাও তেমন। এখন জানলায় বিন্দু বিন্দু পানি হয়ে আছি, কিন্তু যখন এক ফালি রোদ এ জানালাটায় পড়বে তখন আমার অস্তিত্বের ছিটেফোটাও থাকবে না। মাঝে মাঝে অনেক কৌতূহল জাগে আমার। আসলেই এ সম্পর্কটার শেষটা কি হবে?খারাপ নাকি খুব খারাপ!

লেখক – গোলাম মোস্তফা আশা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.