খেজুর রস বের করতে ব্যস্ত খাজুরা অঞ্চলের গাছি -রেজাউল ইসলাম ।। news10tv.com

খুলনা ব্যুরো : শামসুর রহমান নিরব ।

0 ৪৪

যশোর সদর উপজেলার খাজুরার খেজুর গুড়ের দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সুনাম আছে। অনেকেই এখান থেকে গুড় সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায়।
প্রাচীন এই সভ্যতা কে ধরে রাখা এখন প্রায় কোঠিন হয়ে পড়েছে। গাছির অভাবে এই সভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার পথে।

যশোরের যশ খেজুরের রস’এই প্রবাদকে সত্য করে তুলতে যশোর জেলা জুড়ে গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে খেজুরের গুড় আর পাটালি তৈরির মহা উৎসব। প্রতি বছর শীতের শুরুতেই গাছেরা খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত থাকে।

বাড়িতে বাড়িতে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে পিঠা পায়েসসহ নাম নানা মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম পড়ে যাবে। শীত শুরু হতে না হতেই রস ও গুড়ের চাহিদা মেটাতে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে খেজুর গাছে খিলি দিতে শুরু করেছে। এর সপ্তাহ খানেক পর নোলন দিয়ে খেজুরের রস আহরণ শুরু হবে। রস দিয়ে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। শীত যত বাড়বে খেজুরের রসের মিষ্টি তত বাড়বে। গ্রামীণ জনপদে শীতের সব থেকে বড় আর্কষণ দিনের শুরুতে খেজুরের রস, সন্ধ্যায় রস ও সুস্বাদু পাটালি গুড়। দেশে ও বিদেশে এখানকার কারিগরদের তৈরি খেজুরের পাটালি গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার ২নং লেবুতলা ইউনিয়নের  শশু’নাহদা দক্ষিণপাড়া গ্রামের গাছি রেজাউল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ খেজুর গাছ কেটে গুড় ও পাটালি তৈরি করে বিক্রি করেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তিনি শীতের শুরুতেই খেজুর গাছ তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এবছর রেজাউল ইসলাম শশু’নাহদা ও বীর নারায়নপুর এই দুই গ্রাম মিলে প্রায় ২০০ খেজুর গাছ তুলেছেন কাটার জন্য।

যশোর সদর উপজেলার শশু’নাহদা
গ্রামের গাছি রেজাউল ইসলাম জানান, যশোরের খেজুরের রস ও পাটালি এই এলাকার গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক।
যশোর জেলা খেজুরের রস ও পাটালি গুড়ের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় আমরা যশোরবাসী হিসাবে গর্ভবোধ করি।’
পাটালি গুড়ের দাম বেশি পাওয়ার জন্য এ অঞ্চালের গাছিরা শীত মৌসুম আসার আগেই খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য গাছ প্রস্তুত করে রাখে। আগাম গাছ তোলায় রস ও গুড়ের দাম বেশি পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, এ মৌসুমে আমি প্রায় দুশ’ খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করবো। তবে সব গাছ আমার একার না। চুক্তিতে অন্যের গাছও নিয়েছি। এ বছর খরচ বাদে রস পাটালি ও গুড় বিক্রি করে তার লাভ থাকবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

খাজুরা বাজারের গুড় ও পাটালি ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, বছরের শুরুতে কেবলমাত্র কয়েকজন গাছি পাটালি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও বছরের শুরুতে একটু দাম বেশি তবে উৎপাদন বাড়লেও দাম সাধারন মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এ বিষয়ে ২নং লেবুতলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শওকত হোসেন  বলেন, খেজুরের রস আহরণের জন্য গাছিরা খেজুর গাছগুলো আগাম প্রস্তুত করে রেখেছে। এখান থেকে গাছিরা রস আহরণ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। কেউ যাতে ভেজাল গুড় উৎপাদন না করতে পারে সেদিকে আমরা লক্ষ রাখছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.