আশুলিয়ায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে দাদা শশুর নিহতের ঘটনায় ; বাদী শশুর – আসামী মেয়ে জামাই ।। news10tv.com

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুন্সী মেহেদী হাসান ।

0 ৬৫

 

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার তাজপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে আফাজ উদ্দিন পালোয়ান (৭৫) নিহতের ঘটনায় ছেলে মোক্তার পালোয়ান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, আশুলিয়া থানা মামলা নং-৩১, তাং-১২ /১০/২০২০ ইং। মামলায় মুজিবর রহমান পালোয়ান, মহসিন পালোয়ান, রিয়াজ পালোয়ান, ফেরদৌস পালোয়ান, ফিরোজা বেগম ও লতা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৩ নং অভিযুক্ত রিয়াজ পালোয়ান মামলার বাদী মোক্তার পালোয়ানের মেয়ে জামাই, আর বাকীরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র গত ৯/১০/২০ ইং শুক্রবার সন্ধ্যায় মোক্তার পালোয়ানকে একা পেয়ে মারধর করতে থাকে আসামিগন।
এ সময় আমার বৃদ্ধ পিতা মারামারি ফেরাতে গেলে ৩ নং বিবাদী রিয়াজ পালোয়ান তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ১ নং বিবাদী মজিবর পালোয়ান তাকে মারতে মারতে জখম করাসহ লাঠি দিয়ে তার বাম পায়ের রানে আঘাত করে হাড়ভাঙ্গা আহত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তার বাম পায়ের উরুর হাড় ভেঙে যায়।

এ অবস্থায় তার স্বজনরা আফাজ উদ্দিনকে প্রথমে সাভার হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে সিট না থাকায় মোহাম্মদপুরে নুরজাহান মেডিকেলে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে রোববার রাত সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ পরিদর্শক ( অপারেশন) আব্দুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন । তদন্তের পাশাপাশি, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযুক্ত রিয়াজ পালোয়ানের স্ত্রী মোসাঃ সুমি আক্তার জানান, নিহত আফাজ পালোয়ান আমার দাদা এবং বাদী মোক্তার পালোয়ান আমার বাবা, আর রিয়াজ পালোয়ান আমার স্বামী । আমার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় আমাদের সাথে সম্পর্ক একটু খারাপ চলছিলো। আমার সৎ মা সব সময় আমাদেরকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করতো। দাদা নিহতের ঘটনায়, সৎ মায়ের প্ররোচনায় আমার স্বামীকে মামলায় জড়িয়ে ফাঁসানো হয়েছে । আমার সৎ মা এক ঢিলে দুই পাখি মারতে আমার বাবাকে ভুল বুঝিয়ে রিয়াজকে মামলায় জড়িয়েছে।আমার সৎ মায়ের যোগসাজশে একটি মহল রিয়াজকে মামলায় জড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। ওইদিন মারামারির সময় রিয়াজ দুরে ছিলো, খবর পেয়ে ছুটে এসে আহত দাদাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে। অথচ তাকেই আসামি বানানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউনুস পালোয়ান জানান, মোক্তার পালোয়ান ও মহসিন পালোয়ান চিহ্নিত মাদক সেবী, কয়েকবার তাদেরকে রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করা হয়। তবে ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না, ঘটনাটি পরে শুনেছি। বাদি বিবাদী সকলেই নিকট আত্মীয়। ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক, আমার দাবী কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত দোষীর শাস্তি হোক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, মোক্তার ও মহসিন পালোয়ান দুজনেই মাদক সেবী। তাদের মধ্যে প্রায়শই মারামারি হাতাহাতি লেগে থাকতো, আবার একসাথে মাদক সেবন করতো । ঘটনার দুইদিন আগ থেকে তাদের মধ্যে মাদক ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব লাগে। গত ০৯/১০/২০ ইং শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাদের মধ্যে মারামারি হয়। এসময় তাদেরকে ঠেকাতে গেলে পড়ে গিয়ে আহত হয় আফাজ উদ্দিন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনার মূল বিষয়বস্তু উল্লেখ করে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বর মোঃ আলমগীর কবীর মন্ডল। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন -গত ০৯/১০/২০ ইং তারিখে শুক্রবার সন্ধ্যায় আফাজ উদ্দিন পালোয়ানের পুত্র মোক্তার পালোয়ান ও চাচাত ভাই মহসিন পালোয়ান মাদক দ্রব্য সেবন ও বিক্রয়ের জন্য আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে নিজ বাড়িতে উভয়ের মধ্যে মারামারি হয়। উক্ত মোক্তার ও মহসিন পালোয়ান একাধিকবার মাদকদ্রব্য নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি ছিলো । এক পর্যায়ে তাদের দুই ভাই মজিবর ও সাত্তার পালোয়ান এ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মারামারি ফিরাইতে গিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায় আফাজ পালোয়ান এবং গুরুত্বর আহত হন তিনি । এ ঘটনায় মজিবর পালোয়ানও রক্তাক্ত জখম হন।লোক মারফত খবর পায় ঐদিন রাত ১০ ঘটিকার দিকে মজিবর ও আফাজ পালোয়ান আহত অবস্থায় সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। খবর পেয়ে সিরাজ পালোয়ানকে সাথে নিয়ে তাদেরকে দেখতে যায়। সেখানে গেলে দেখতে পাই মজিবর পালোয়ানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রিলিজ করে দিয়েছে । কিছুক্ষণের মধ্যে প্রাইভেট কার যোগে মোক্তার পালোয়ান তার স্ত্রী, বোন সালেহা বেগম, বাবা আফাজ উদ্দিন কে নিয়ে মেডিকেলে হাজির। আমি তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাই সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের পরামর্শ দেই। ডাক্তার তাকে সঠিক চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আমাকে আশ্বাস প্রদান করেন। যেহেতু উভয় পক্ষ চাচাতো জেঠাতো ভাই, তাই উভয় পক্ষকে চিকিৎসা শেষে আত্মীয় স্বজনদের সাথে নিয়ে বিরোধ মিমাংসা করে দিব বলে আমি বাড়ীতে চলে আসি। আপনারা আমাকে মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি আজীবন আপনাদের সেবা করতে চাই। আপনারা একটু খেয়াল রাখবেন, কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করতে না পারে। মনে রাখবেন, সেবক সব সময় সেবা করার চিন্তায় মগ্ন থাকে। কাউকে ক্ষতি করার চিন্তাও করেনা। আল্লাহ সবাইকে নেক হায়াত দান করুক- আমিন।

তবে মামলার এজাহারের সাথে তার স্ট্যাটাসের মিল না পেয়ে, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড, মেম্বার মোঃ আলমগীর কবীর মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আফাজ উদ্দিন পালোয়ানের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখ জনক । আমিও চাই দোষীর সাজা হোক, তবে বিনা দোষে কেউ যেন হয়রানির স্বীকার না হয়। আমি যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম তখন উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে দিয়েছিলাম।

আমি এলাকার ইউপি সদস্য হিসাবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে চাই। একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যা মিথ্যা, বানোয়াট এবং নিন্দনীয়। আমি আফাজ পালোয়ান নিহতের সঠিক বিচার দাবী করছি,

সেইসাথে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষিকে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। আমি কারো স্বার্থ রক্ষার জন্য সত্য ন্যায়ের বিপরীতে মাথা নত করবো না। ৩ নং ওয়ার্ড বাসীর সকল সেবামূলক কাজে আমি আজীবন কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.