অতিথি পাখির মাংস দিয়ে অতিথি ভোজ নয় ।। news10tv.com

তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ : আহাম্মদ কবির।

0 ১৮৮

 

হিমশীতল দেশ সাইবেরিয়া মঙ্গলীয়া ও তার পাশ্ববর্তী অঞ্চল থেকে শীত মৌসুমে উড়ে আসা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি,প্রচন্ড ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় নেয় আমাদের দেশের টাঙ্গুয়ার হাওর সহ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাওর জলাশয়ে। জানি না কে প্রথম এই পাখিদের নাম রেখেছিল অতিথি পাখি বলে। তবে অনেকের ধারণা মতে প্রচলিত নিয়মে অতিথিরা যেমন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে একটি নির্দিষ্ট সময় থাকার পর আবার ফিরে যায় নিজগৃহে, তেমনি এই পাখিরাও শীত মৌসুমে আমাদের দেশে এসে শীতের শেষে আবার ফিরে যায়, নিজ গন্তব্যে,তাই এদের বলা হয় অতিথি পাখি।

বিশ্বের  বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অতিথি পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বালিহাঁস, সরালি,প্যালাসেস ঈগল, মৌলভীহাঁস,পিয়ারী,কাইম,কালাকুড়,রামকুড়া,মাথারাঙ্গা,চোখাহাঁস,বিলাশী শালিক,প্রভৃতি। এছাড়াওকাইম,ডংকুর,আলতি,খয়েরী আলতি,ডাক,ইত্যাদি।

জানাযায় শীত মৌসুমে অতিথি হয়ে এসব পাখি আমাদের দেশের টাঙ্গুয়ার হাওর সহ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাওরে আসলেও,স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল  ওদের প্রতি অতিথিসুলভ আচরণ না করে এই অতিথি পাখির জীবন হরণে কীভাবে রসনার তৃপ্তি হবে তাই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তারা অতিথি পাখি শিকার করতে প্রয়োগ করে নানা কৌশল, ফাঁদ, টর্সলাইট জ্বালিয়ে কুচ দিয়ে ঘাঁ মেরে, নেটপাটা ঘুনি পেতে,জাল দিয়ে, অতিথি পাখি শিকারে মত্ত হয় একশ্রেণির দুষ্কৃতকারী  লোক। তারা নিজেদের রসনা মেটাবার পাশাপাশি অনেকে শহরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে এই পাখি। কেউ বা আবার পাখি ধরে বন্ধুবান্ধব,নিকটাত্মীয়দের বাসায় পাঠায়,শুধু তাই নয় মোবাইল করে পাখি খাওয়ার দাওয়াত জানিয়ে আসতে বলে,অতিথি পাখির মাংস দিয়েই হয় অতিথি ভোজ।

মানুষের ধারণা মতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের দেশে আগত পাখিরা সময় শেষে ফের গন্তব্যে ফিরে যাওয়ায় এই পাখি গুলোকে  অতিথি পাখি বলার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে রেওয়াজটা এখন এমন যে এই পাখির মাংস দিয়ে অতিথিদের ভোজ দেওয়া হয় বলে এই পাখিদের  নাম দেওয়া হয়েছে অতিথি পাখি।

টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ কবির বলেন শীত আসলেই স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী লোক এসব অতিথি পাখিদের নিয়ে ভোজনবিলাসে মেতে উঠে। তারা আসলে লোভের বসতে ভুলে যায় এই পাখিগুলো আমাদের নিজ দেশীয় পাখি না।শীতের প্রচন্ড কষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় নেয় আমাদের দেশে। নিতান্ত কষ্টে না পড়লে তারা হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে আশ্রয় নিত না। উনি আর বলেন আমরা যখন দুর্যোগে পড়ি তখন অনেকেই নিজেদের রক্ষার জন্য আশ্রয় নেই বিভিন্ন দুর্যোগ সেন্টার কিংবা প্রতিবেশীদের নিরাপদ আবাস্থলে। দুর্যোগে আমাদের যে অবস্থা হয়,শীত আসলে পাখিগুলোর অবস্থাও ঠিক তেমনি হয়।তাই ওদের প্রতি আমাদের মমত্ব দেখাবার দরকার আছে।উনি বলেন অতিথি পাখি আমাদের উপকারী বন্ধু, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই পাখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃদ্ধি করে প্রাকৃতিক জলাশয়ের সৌন্দর্য।আমাদের ধান ও অন্যান্য ফসল ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকামাকড় ওরা ধরে ধরে খায়।তাই এদের রক্ষায় আমাদের সচেতন হতে হবে।অতিথি পাখি শিকার রোধে দেশে আইন রয়েছে এবং আইনের প্রয়োগও লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন হাটবারে অতিথি পাখি বিক্রয়ের দায়ে বিভিন্ন সময়ে জেল-জরিমানা করতেও লক্ষ করা যাচ্ছে। তবুও এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে নীরবে-নিভৃতে প্রতি বছরেই চালিয়ে যায় পাখি শিকার  ও পাখি বিক্রয়ের এই অপকর্ম। এ বছরেও শীতের আগমনীর শুরুতেই তৎপর এই পাখি শিকারী  চক্র।অতিথি পাখি ধরা ও তা দিয়ে ভোজের আয়োজন আমাদের বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আরো জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি দেশের মানুষের বিবেকে অতিথি পাখির প্রতি আরও মমত্ববোধ ও প্রকৃত অতিথিসুলভ মনোভাব সৃষ্টির কামনা করেন উনি।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.